আওয়াজবিডি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল ২০১৯

দলের নির্বাচিত এমপিদের ফের সতর্ক করলো বিএনপি

বিএনপি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দলের ৬ সংসদ সদস্যের শপথ না নেয়ার পক্ষে সিদ্ধান্তে এখনও অটল বিএনপি। শপথ নিয়ে ‘ভোট ডাকাতি ও কারচুপির’ এ সংসদকে বৈধতা দেবে না দলটি।

সে কারণে নির্বাচিতদের ডেকে দলের পক্ষ থেকে কড়া সতর্ক ও সাবধান করে দেয়া হয়েছে, যাতে কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো ভুল না করেন বা লোভে পা না দেন।

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ৫ সংসদ সদস্যদের ডেকে দলের পক্ষ থেকে এ সতর্কতা ও নির্দেশনা দেয়া হয়। নির্দেশনা দেন আরেক বিজয়ী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের বিজয়ী সদস্যদের শপথ না নেয়ার দলীয় সিদ্ধান্তের কথা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সবাইকে চূড়ান্তভাবে জানিয়ে দেন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যাতে কেউ শপথ না নেন সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক করেন তিনি।

সোমবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে ওই বৈঠক উপস্থিত ছিলেন- ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে বিএনপির বিজয়ী এমপি জাহিদুর রহমান, বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন বাবুল, চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুণ অর রশীদ, চাপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের উকিল আব্দুস সাত্তার।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। ওই সাক্ষাতে তারা দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক বিষয়ের পাশাপাশি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়া না নেয়ার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন। নানা যুক্তি ও সম্ভাবনা আলোচনা-পর্যালোচনার পর বিএনপি চেয়ারপারসনও শপথ না নেয়ার পক্ষে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। এরপর সোমবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জরুরি বৈঠক করেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সোমবার রাতে আমাদের স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে শপথ না নেয়ার বিষয়ে অটল থাকার সিদ্ধান্ত হয়। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেয়ার বিষয়টি দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জানানোর জন্য মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর দায়িত্ব দেয়া হয়। রাতেই নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সবাইকে গুলশান কার্যালয়ে ডেকে মহাসচিব তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তাদের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।

Loading...