আওয়াজবিডি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার ১৫ এপ্রিল ২০১৯

নুসরাতের হত্যাকান্ডের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জড়িত: মোশাররফ

ডা. জাফরুল্লাহ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকান্ডের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জড়িত। অতীতে তনুসহ অনেককেই হত্যা করা হয়েছে, তাদের বিচার হয়নি। কিছুদিন আগে নুসরাতের অপমৃত্যুর মাধ্যমে একটি নৃশংস ঘটনা ঘটে গেল। কারা এটা করেছে? যারা এটা করেছে তারা স্বীকার করেছে। আমরা শুনতে পাচ্ছি যে তারা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। মন্ত্রীরা অন্যভাবে বক্তব্য দিয়ে এটাকে ধামাচাপা দেয়ার ব্যবস্থা করছে। ’

সোমবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে আদর্শ নাগরিক আন্দোলনের উদ্যোগে ‘গণতন্ত্র ও আইনের শাসন: কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘এই ধর্ষকের পক্ষে কারা মিছিল করেছে? এই আওয়ামী লীগ মিছিল করেছে। আবার উপরের লোকজন মাদ্রাসা শিক্ষাকে নিয়ে কটাক্ষ করছে কিন্তু সেটা একটা ব্যক্তি করেছে আর সেই ব্যক্তি আওয়ামী লীগ করে আমার বিশ্বাস সে যদি আওয়ামী লীগ না করতো তাহলে এ ধরনের নৃশংস কাজ সে করতে পারত না। গণতন্ত্র ও আইন শাসন একই সুতোয় গাথা। যেখানে আইনের শাসন নেই সেখানে গণতন্ত্র থাকতে পারেনা। বর্তমানে দেশে আইনের শাসন নাই। তাই গণতন্ত্র ও নাই। সরকার দুবারই গণতন্ত্রকে হরণ করেছে। ’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র না থাকলে দেশে কি হয় তা আমরা দেখছি। বাংলাদেশক ধ্বংস করার সকল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। কোথাও স্বস্তি নেই। দেশে এখন জনগণের অধিকার, জনমতের অধিকার, লেখার অধিকার, বলার অধিকার নেই। আমাদের এখন দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় বাংলাদেশ এখন কোন পথে যাচ্ছে। জনগণের ভোটের প্রতি অনিহা দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। ’

বিএনপির শীর্ষ এ নেতা বলেন, ‘যে প্রশাসন, রাষ্ট্রশাসন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাকর্মীদের ব্যবহার করে এতো অপকর্ম করে তাদের কাছ থেকে আমরা কিভাবে নৈতিকতা আশা করতে পারি। বাংলাদেশ এখন নৈরাজ্যের দিকে যাচ্ছে। যে হত্যাকান্ড সারা দেশকে নাড়া দিয়েছে সেই অপরাধীরা আওয়ামী লীগের বলে তারা বহিষ্কৃত হয় কিন্তু গ্রেফতার হয় না। গুম, খুন, ব্যাংক লুট, শেয়ার বাজার লুট, অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার কোন অপকর্ম করে নাই তারা। এইসব অপকর্মে ভীত হয়ে ৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতি করেছে সরকার। ’

খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় বেগম জিয়াকে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। যে মামলায় তাঁকে সাজা দেয়া হয়েছে, সেই মামলায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততাই নেই। অন্যায়ভাবে ১৩ মাস যাবত তিনি কারাভোগ করছেন। এক দেশে দুই আইন হতে পারে না। আওয়ামী লীগের জন্যে এক আইন এবং বিএনপির জন্যে অন্য আইন তা হতে পারে না। দেশে যে সুবিচার ও আইনের শাসন নেই তার অনেক উদাহরণের প্রয়োজন নেই। এই একটি উদাহরণই যথেষ্ট। তাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে আইনের সুশাসন এবং অন্যায় অবিচার মুক্ত গণতন্ত্রের দেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ’

Loading...