সবুর মিয়া
প্রকাশিত: সোমবার ১৫ এপ্রিল ২০১৯

ঢাকা শহর: দুর্ভোগ না দুর্যোগ ?

সবুর মিয়া

সাম্প্রতিক সময়ে আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বসবাস করছি, যার সীমা পরিসীমা সংজ্ঞায়িত করতে গেলে অনেক লম্বা আলোচনা দরকার।

এদেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ ঢাকা শহরে বসবাস করে যার সিংহভাগ মানুষ মধ্য ও নিম্ন আয়ের। যারা প্রতিদিন ঢাকার লোকাল গাড়িতে চড়ে, তারা জানে, শুধু জানে না, বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়ে জানে,  এটা আসলে কত দুর্ভোগ আমার তো মনে হয় শুধু দুর্ভোগ বললে ভুল হবে, এটাকে দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করাযেতে পারে। এর পরিত্রাণ কোথায় ? আমরা কি এর কোন সমাধান পাব?

ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোতেও এই দুর্ভোগের কোনশেষ নেই যেমন-  গুলশানের গাড়ির লম্বা লাইন দেখলে মনে হয় এ লাইন হয়তো শেষ হওয়ার নয়!

আর ভাড়ার নামে মানুষের পকেট কাটা এক ধরনের ব্ল্যাকমেইল করা;সিটিং সার্ভিস এর নামে মানুষকে সীমাহীন হয়রানি করা।

সড়ক দুর্ঘটনা, এটা তো নিত্যদিনের সঙ্গী, কে যে কখন দুর্ঘটনায় পতিত হবে কেউ বলতে পারে না। প্রতিদিন নিজ চোখে দেখি, কোন না কোন দুর্ঘটনা।

আমরা এমন একটি শহরে বসবাস করি, যে শহরে এদেশের প্রশাসনের প্রধান অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি্, মন্ত্রী্, সচিব, এমপি এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বড় বড় পদ মর্যাদার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মানুষের বসবাস। সেই শহরের এই দুর্দশা! এমনটি আসলে কি আমাদের কাম্য?

কে দিবে; আমাদের এই সমস্যার সমাধান? আমরা কি শুধু মুখেই বলব? টকশোতে গিয়ে টক টক করব! আর বাস্তব দেখব লাশের মিছিল আর আহত হওয়া মানুষের তো আর কেউ খোঁজ রাখে না।

সঠিক পরিসংখ্যান কি কেউ দিতে পারবে? আমাদের এই ঢাকা শহরে প্রতিদিন, প্রতি ঘন্টায়, প্রতি মিনিটে, প্রতি সেকেন্ডে কতগুলো দুর্ঘটনা ঘটে কতজন মারা যায় আরকত জন আহত হয়ে পঙ্গুত্ব জীবন যাপন করে?

তবে বর্তমানে মিডিয়ার কল্যাণে, আমরা বেশ কিছু খবরপেয়ে থাকি কিন্তু আমাদের দেশে এত ইস্যুর কোন সীমা, পরিসীমা নেই। যাদের কাছে আমরা আমাদের অভিযোগগুলো করব, তারাও তো এই শহরেই বাস করে, এই শহরেই চলাফেরা করে।

হ্যাঁ, হয়তো তারা নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়িতে চলে কিন্তু রাস্তা তো একটাই, গন্তব্য তো একটাই, তাহলে কোথাই এর প্রতিকার, শুধুই কি যানজটে নাকাল শহরবাসী সাথে আছে সীবীচের রাস্তা। ঢাকা শহর না খোলা শহর!! এটা জীবন বাঁচানোর শহর, এটা কি আসলেই জীবন!! এটা যদি আসলে জীবন হয়, তবে সত্যি কারের জীবন কোনটা। আবার আমরা স্বপ্ন দেখি, সিঙ্গাপুর হতে যাচ্ছি! আশার বাণী নাকি মানুষকে বোকা বানানোর এক ধরনের কথার ফুলঝুরি?

নিরাপত্তা! আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? একজন মানুষ রাতের বেলা, এমনকি দিনের বেলাও স্বাধীন নয়, যে কোন সময় মুখোমুখি হতে পারে যেকোনো ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির।

এটাই কি সিঙ্গাপুর? কে দিবে আমাদের নিরাপত্তা ?এমনকি একটি মোবাইল ফোন নিয়ে রাস্তায় বের হওয়া একটা বিপদ সংকেত হতে পারে। যানজট, নিরাপত্তা, জলাবদ্ধতা, অস্বাভাবিক বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি, লোকাল গাড়ির দৌরাত্ম্য, প্রশাসনের উদাসীনতা এই থেকে আমাদের মুক্তির উপায় কি? ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অঙ্গীকার আর কত বিশ্বাস করব।

বিশ্বাস করাতে হবে, এটাই বাস্তব! “কে বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে”!

Loading...
  • মুক্তমত এর আরও খবর