আমতলীতে ১০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিলেন ১৫ কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী


কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী

করোনা আতঙ্কে থমকে গেছে পুরো বিশ্ব। এ ভাইরাজের আতঙ্ক থেকে রেহায় পায়নি বাংলাদেশও। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় লকউউনের মাধ্যমে যে যার মতো করে নিয়ন্ত্রণের রাখার চেষ্টা করছে। সরকারি নির্দেশনা মেনে করোনা সংক্রমণ রোধে নিজ ঘরে হোম কোয়ারান্টিনে অবস্থান করছেন দেশের মানুষ।

বন্ধ রয়েছে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, যানবাহন চলাচল। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমিক, রিকশাচলকসহ দুস্থ ও অসহায় পরিবারের সদস্যরা। ফলে খাদ্যের সংকটও দেখা দিয়েছে তাদের। এ অবস্থায় সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায় থেকে দুস্থ ও অসহায় পরিবারের সদস্যদের খাদ্য সহায়তা করা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এর অংশ হিসেবেই সাংবাদিক এইচ এম কাওসার মাদবর এর উদ্যোগে সাব্বির রহমান এর সঞ্চালনায় মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ শাকিল এর দিক নির্দেশনায় উপজেলার বিভিন্ন স্কুুল কলেজ পড়ুয়া ১৫ জন ছাত্রদের নিয়ে "আঁধারে আলো ফাউন্ডেশন" এর মাধ্যমে এলাকার প্রবাসী সহ সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছ থেকে তহবিল তোলে নিজ এলাকায় ৫ই এপ্রিল রোজ রবিবার অসহায় শতাধিক পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেন তরুণ যুবক শিক্ষার্থীরা।

চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনামূলক লিফলেট নিয়ে হাজির হয়েছেন এবং অসহায় দুস্থ পরিবার গুলোর হাতে হাতে তুলে দেন চাল-ডালের ব্যাগ। কলেজ পড়ুয়া যুবক শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে উপজেলার ২নং কুকুয়া ইউনিয়নের কেওয়া বুনিয়া গ্রামের ১০০টি পরিবারকে পাঁচ কেজি চাল,দুই কেজি আলু আধা কেজি ডাল, আধা কেজি তেল আধা কেজি পেয়াজ ও এক পিস সাবান দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এলাকার সচেতন নাগরিক, লিয়াকত আলী মাস্টার, মহাসিন মাদবর, ফারুক মাস্টার বলেন, তরুণ যুবক শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম চালু রাখার জন্য সমাজের সকলের প্রতি অনুরোধ করেন।

খাদ্য সামগ্রী পাওয়া এলাকার প্রতিবন্ধী ফজলুল করিম বলেন, এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমাদের মত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এই যুবক শিক্ষার্থীদের জন্য দোয়া রইল।

৮০ বছরের এক বৃদ্ধ মহিলা বলেন, আল্লাহ তোমাগো বাচাই রাখুক, এই দুর্দিনে তোমরা আমাগো কথা মনে রাখছো আল্লাহ তোমাগো বাঁচায় রাখুক।

১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জহির মাতুব্বর বলেন, তরুণ শিক্ষার্থীদের কাজে আমি ও এলাকার মানুষ সন্তুষ্ট, এই গ্রামের ১০০ অসহায় পরিবারকে খাদ্য সহায়তা করেছেন এই তরুণ শিক্ষার্থীরা।

আমতলী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মনিরা পারভীন বলেন, এ বিষয়ে আমার কোন জানা নেই, যদিও কোন ব্যক্তি খাদ্য সহায়তা দিতে চান সে ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার নিয়ম রয়েছেন। তবে তাদের এই কাজকে সাধুবাদ জানাই।

এইচ এম কাওসার মাদবর/এসএম/আওয়াজবিডি

ads