নারায়ণগঞ্জে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১০০ জন: ডিসি জসিম উদ্দিন


নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জেলায় সর্বশেষ ১ জন সন্দেভাজন করোনা রোগীর নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ পাওয়া গেছে। আনুমানিক ৪৮ বছর বয়স্ক ওই নারী ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। ৩০ মার্চ বন্দর উপজেলার রসূলবাগ এলাকায় করোনায় সন্দেহভাজন ওই নারী কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতলে মৃত্যুবরণ করেন। এ ছাড়া মৃত নারীর পরিবারের সদস্যদের নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে নারায়ণগঞ্জে করোনা পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা এবং প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদেয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ বিষয়ে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক এসব কথা জানান।

জেলা প্রশাসক জানান, এ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলায় সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ জন। তারমধ্যে ৩ জন্য সুস্থ্য হয়েছেন, ১ জন মারা গেছেন। এবং ১ জন সন্দেভাজন করোনা রোগী হিসেবে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫১৪ জন। কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়প্রাপ্ত ৪১৯ জন। সে হিসেবে বর্তমানে প্রায় ১০০ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন।

তিনি আরো জানান, ১ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত বিদেশ থেকে মোট এসেছেন ৬ হাজার ১২ জন। এর মধ্যে ঠিকানা ও অবস্থান চিহ্নিত বিদেশ প্রত্যাগত ব্যক্তি মোট ১ হাজার ২৪০ জন। সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র ৬ টি। ডাক্তার সংখ্যা ৯০ জন, নার্সের সংখ্যা ১৭৩ জন, এম্বুল্যান্সে ৬ টি। এছাড়া বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র ৭২ টি, কোভিড ১৯ চিকিৎসায় প্রস্তুত বেড ৭২টি, ডাক্তারে সংখ্যা ১০০ জন নার্সের সংখ্যা ১৮০ জন।

ডিসি জানান, করোনায় মৃত নারীর নমুনা পরীক্ষা করার পর ২ এপ্রিল প্রাপ্ত রির্পোটে ওই নারী করোনা পজিটিভ বলে জানা যায়। তথ্য প্রাপ্তির সাথে সাথে বন্দর উপজেলার নির্বহী অফিসার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ওই এলাকায় যান এবং আনুমানিক ১০০ টি পরিবারসহ ওই এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করেন। এ সময় আইইডিসিআর এর কর্মকর্তাবৃন্দ সেখানে ছিলেন। লকডাউন এলাকার প্রত্যেক পরিবারের খাদ্যসহ অন্যান্য সহায়তা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক জানান, জেলায় মোট ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রি ( পিপিই) বিতরণ করা হয়েছে ৬৪৫ টি। এখন পর্যন্ত রয়েছে ১ হাজার ৬৩ টি। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ৩৫০টি গাউন সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করেছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলকার জন্য ২৫ মেট্রিক টন চাল ও ১ লাখ টাকা জেলা থেকে উপবরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ১ এপ্রিল ১ লাখ টাকা ও ২৫ মেট্রিক টন চাল ইতিমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে বিতরনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বেসরকারি উদ্যোগে প্রাপ্ত মানবিক সহায়তার মধ্যে ২ হাজার ১২৪ প্যাকেট খাদ্য সহায়তা এবং ১৬ লাখ টাকা চেকের মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা পাওয়া গিয়েছে । যার মধ্যে ৭৪১ প্যাকেট খাবার ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। কোন উপকারভোগী যেন বাদ না পরে এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার মানবিক কাজে উদ্যোগী বিত্ত্বশালী ব্যক্তি, সংগঠন, এনজিও কোন খাদ্য সহায়তা প্রদান করলে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত ২০ নং নির্দেশনা অনুযায়ী আবশ্যিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে নেয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি।

এস. এম. আবদুল্লাহ/এসএম/আওয়াজবিডি

ads