নেত্রকোনায় মারুফা হত্যার বিচার চাইলেন মুক্তিযোদ্ধারা


বিচার

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে এবার গৃহকর্মী কিশোরী মারুফা হত্যার বিচার চাইলেন মুক্তিযোদ্ধারা।

সোমবার বেলা ১১ টায় উপজেলার শহীদ মিনারের সামনের সড়কে মুক্তিযোদ্ধা ও সম্মিলিত নাগরিক সমাজের ব্যানারে এক মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধারা দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে আসামীকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।

মানববন্ধন চলাকালীন সময়ে বক্তব্য রাখেন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হক, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গণি, মোহনগঞ্জের নাগরিক উন্নয়নে সংগঠনটির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা শামছুল হক মাহবুব, আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুল আলম টিপু, সাধারণ পাঠাগারের সহ সভাপতি সুলতান আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান, সদস্য সচিব ইয়াসির আরাফাত রনি, আওয়ামী লীগ নেতা এমদাদুল ইসলাম খোকন প্রমুখ।

মানববন্ধন শেষে নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক মারুফার মা আকলিমা আক্তারকে নগদ ৫ হাজার অর্থ সহায়তা করেন। সেই সাথে নারী নেত্রী শরীফা আক্তারও ৫শ টাকা দেন।

এসময় মুক্তিযোদ্ধারা ঘোষণা করেন, তাদের সবার সরকারি ভাতা থেকে টাকা দিয়ে মারুফার মাকে সকল ধরনের সহায়তা করবেন।

উল্লেখ্য, গত ৯ মে বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মাহবুব মোর্শেদ কাঞ্চনের মোহনগঞ্জ বাসার গৃহকর্মী কিশোরী মারুফা আক্তার (১৪) আত্মহত্যা করেছে বলে চেয়ারম্যান নিজেই লাশ নিয়ে হাসপাতালে যান।

এদিকে থানায় খবর না দিয়ে লাশ নিয়ে হাসপাতালে গেলে পুলিশ খবর পেয়ে লাশের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এদিকে চেয়ারম্যানের ছেলের ঢাকার বাসায় থাকা গৃহকর্মী মারুফার মাকে খবর দেয় পুলিশ। এসময় লাশের গায়ে স্পর্শকাতর বিভিন্ন স্থানে যখমের চিহ্ন দেখে এলাকাবাসী ও মারুফার মা মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠে। পরদিন লাশের ময়নাতদন্ত শেষে চেয়ারম্যানের ভয়ে মারুফার লাশ নিজ বাড়ি বারহাট্টায় না নিয়ে নানার বাড়ি কলমাকান্দায় দাফন করা হয়। পরবর্তীতে ৯৯৯ এ কল করলে ১১ মে পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসীর হস্তক্ষেপে হত্যা মামলা নেন মোহনগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আহাদ খান। রাতেই চেয়ারম্যান কাঞ্চনকে আটক করে পুলিশ। পরদিন ১২ মে কোর্টে সোপর্দ করলে একদিন বাদেই ১৪ মে জামিন নিয়ে বেরিয়ে যান অভিযুক্ত চেয়ারম্যান কাঞ্চন।

এর আগেও বিভিন্ন কারনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে গত ১৯/১১/২০১৯ তারিখে লিখিত চিঠির মাধ্যমে সাময়িক বরখাস্ত করে এই চেয়ারম্যানকে। পরবর্তীতে অদৃশ্য শক্তির বলয়ে ১৫ দিনের মধ্যে পুনরায় বহাল দবিয়তে দ্বায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এদিকে বারবার বিভিন্ন ঘটনায় ছাড় পাওয়া চেয়ারম্যানের গৃহকর্মী হত্যার ঘটনাটি এলাকাবাসীর বিবেকে নারা দিয়েছে। ফলে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। ফেইসবুকে ঝড় ওঠে প্রতিবাদের। ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন জেলা সহ বিভিন্ন উপজেলার মানুষ।

এই আন্দোলনকে ঘিরে হত্যার বিচার দাবীতে ফেইসবুক পোষ্টে মোহনগঞ্জের সন্তান এক বিচারপতিকে কটুক্তির অভিযোগ এনে ইলিয়াস আহমেদ নামের এক যুবক ইতিমধ্যে আটকও হন। বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থী সহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। কবি নির্মলেন্দু গুণ ন্যায় বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি জানিয়ে পোষ্ট দেন ফেইসবুকে। জেলাবাসী সহ সবাই চেয়ে আছে এই নির্মমতার সুষ্টু বিচারের আশায়।

ads