সরকারি ছুটির মেয়াদ বাড়ল ৩ দিন


জুন থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন নতুন সুবিধা

দেশে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সরকারি ছুটির মেয়াদ বাড়ল আরও তিন দিন।

জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন রবিবার দুপুরে সরকারি এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আগে ১১ তারিখ পর্যন্ত ছুটি ছিল। নতুন করে ১২ ও ১৩ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ১৪ এপ্রিল আগে থেকেই নির্বাহী আদেশে ছুটি (বাংলা নববর্ষের) ছিল, সেই ছুটিও এর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হবে। অর্থাৎ, নতুন করে ‘ছুটি’ বাড়ায় এখন তা বলবৎ থাকবে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। দেশে করোনাভাইরাসের মহামারী মোকাবেলা এবং এর ব্যাপক বিস্তার রোধে এই ছুটি বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সেখানে বলা হয়েছে, জরুরি পরিসেবার (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট ইত্যাদি) ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে না। কৃষিপণ্য, সার, কীটনাশক, জ্বালানি, সংবাদপত্র, খাদ্য, শিল্প পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি, জরুরি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং কাঁচা বাজার, খাবার, ওষুধের দোকান ও হাসপাতাল এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। জরুরি প্রয়োজনে অফিস খোলা রাখা যাবে জানিয়ে ছুটির আদেশে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে ঔষধশিল্প, উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা চালু রাখতে পারবে।

এছাড়া মানুষের জীবন জীবিকার স্বার্থে রিকশা-ভ্যানসহ যানবাহন, রেল, বাস সার্ভিস পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় ছুটিকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক সীমিত আকারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

এদিকে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এড়াতে ঢাকা থেকে যাতে কোনো লোক বাইরে যেতে না পারে এবং ঢাকার বাইরে থেকে কোনো মানুষ যাতে ঢাকায় আসতে না পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশের সব ইউনিটকে নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

রবিবার তিনি এই নির্দেশনা দেন। আইজিপির এই নির্দেশে ঢাকা লকডাউনের কথা উল্লেখ না করা হলেও কার্যত ‘লকডাউন’ হলো ঢাকা।

এ অবস্থায় কেবল স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি পরিষেবার কাজে নিয়োজিতরা ঢাকায় ঢুকতে ও বের হতে পারবেন।

পুলিশ সদর দপ্তর আইজিপির এই নির্দেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সদর দপ্তর জানায়, বাংলাদেশ পুলিশ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ও সবাইকে ঘরে রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ যাতে বাইরে বের না হয় সেজন্য কাজ করছে। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ কাউকে ঢাকার বাইরে যেতে দেবে না।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে সরকার প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব অফিস আদালত বন্ধ রেখে সারা দেশে সব ধরনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

সেই সঙ্গে সবাইকে যার যার বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়ায় বিশ্বের আরও অনেক দেশের মত বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষও ঘরবন্দি দশার মধ্যে পড়ে, যাকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বর্ণনা করা হচ্ছে ‘লকডাউন’ হিসেবে।

সরকারি ভাষায় সেই ‍‘ছুটির’ মেয়াদ এরপর বাড়িয়ে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। রোববার নতুন করে ‍তৃতীয় দফায় আরও তিনদিন তা বাড়ানো হল।

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসে দেশে আজ নতুন করে একদিনেই ১৮ জন সংক্রমিত হয়েছে। এই সংখ্যা গতকালের চেয়ে দ্বিগুণ। এছাড়া করোনায় আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এরপর দিনে দিনে সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। ভাইরাসটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ জনে। মারা গেছেন ৯ জন। এছাড়া সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৩০ জন।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এই ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

গত দুদিনের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ছুটি বাড়ানোর দাবি উঠেছিল বিভিন্ন ফোরামে। সরকার অবশেষে সেই পথেই হাটল।

এসএম/আওয়াজবিডি

ads