লিবিবায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ড: গোপালগঞ্জে ৩ মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা


মামলা

লিবিবায় গুলি করে গোপালগঞ্জের সুজন মৃধা নামে এক যুবককে হত্যা ও অপর এক যুবককে আহত করার ঘটনায় মুকসুদপুর থানায় তিন মানব পাচারকারী বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

সোমবার নিহত সুজনের বাবা কাবুল মৃধা বাদী হয়ে মুকসুদপুর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলার বিষয়টি মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মৃধা আবুল কালাম আজাদ নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- উপজেলার সুন্দরদী গ্রামের ওসমান শেখের ছেলে লিয়াকত শেখ ওরফে লেকু শেখ (৪৫), যাত্রাবাড়ী গ্রামের মৃত রজব আলী মোড়লের ছেলে রব মোড়ল (৪৫) ও মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার সত্যবর্তী গ্রামের আ. মজিদ সরদারের ছেলে জুলহাস সরদার।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি বাদীর ছেলে সুজন মৃধা ও ভাগনে ফরিদপুর জেলার সালথা থানার আলমপুর গ্রামের কবির শেখের ছেলে কামরুল শেখকে ৮ লাখ টাকা ও কালাম শেখের ছেলে ওমর শেখকে চার লাখ টাকার বিনিময়ে লিবিয়া পাঠানোর পর ভাল বেতনে চাকরি দেবার জন্য মৌখিক চুক্তি হয়। এরপর ১৫ জানুয়ারি তিনি ২ লাখ ৫০ হাজার ও কালাম শেখ ৫০ হাজার টাকা দালাল রব মোড়কে দেন। পরে রব মোড়ল অন্য দুই আসামীর কাছে টাকা পৌঁছে দেন।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি আসামিরা বাড়িতে এসে লিবিয়া পাঠানোরে উদ্দেশ্যে সুজন মৃধা, কামরুল শেখ ও ওমর শেখকে বাড়ি থেকে ঢাকায় নিয়ে যান। এরপর ভারত থেকে দুবাই, কুয়েত ও মিশর হয়ে লিবিয়া পাঠায়।
পরবর্তীতে ১১ ফেব্রুয়ারি আসামিদের ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেয়া হয়। এক মাস পর চুক্তি ভেঙে লিবিয়ার বেনগাজীর মিজদাহ শহরে নিয়ে সুজন, কামরুল ও ওমরকে আটকে রেখে মুক্তিপণের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। দালাল চক্রটি ওই তিনজনের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তারা নির্যাতন করার ভয়েস মেসেজ ওই তিনজনের পরিবারের সদস্যদের কাছেও পাঠায়।

লিবিয়া থেকে মেসেজ পেয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি আসামি তিন দালালকে পরিবারের লোকজন জানালে তারা দাবিকৃত টাকা না দিলে কিছুই করতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়। এরপর ২৮ মে সুজন মৃধা ও কামরুল শেখকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং ওমর শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন।
এ ব্যাপারে মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)

মৃধা আবুল কালাম আজাদ জানান, দুই যুবককে গুলি করে হত্যা ও অপর এক যুবককে গুলি করে আহত করার ঘটনায় তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ আসামিদের বাড়িতে অভিযান চালায়। কিন্তু আসামিরা পলাতক রয়েছে। আসামিদের ধরতে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি লিবিয়ায় গুলি করে ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সুজন মৃধা রয়েছেন। অপর যুবক ওমর শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে লিবিয়ার ত্রিপলির একটি হাসপাতালে জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

ads