গৌরনদীতে আ.লীগ নেতার বালু বাণিজ্য, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০


গৌরনদীতে

নব্য আওয়ামী লীগ নেতার বালু বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুইগ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুইটি বাড়ি, ছাত্রলীগ নেতার একটি ব্যক্তিগত অফিস ও ১০টি মোটরসাইকেল ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় এক ছাত্রলীগ নেতার মাসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দুপুরে উপজেলার গৌরনদী ও টরকী বাসষ্ট্যান্ডে।

সরকারী গৌরনদী কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ছাত্রলীগ নেতা সুমন মাহমুদ জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগমুহুর্তে বরিশাল-১ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপনের অর্থদাতা প্রভাবশালী বিএনপি ক্যাডার রাশেদুজ্জামান ঝিলাম খোলস পাল্টিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করে। অতিসম্প্রতি সে (ঝিলাম) পৌর সদরের উত্তর বিজয়পুর মহল্লায় বালু ভরাট বাণিজ্যের কাজ শুরু করেন। শনিবার দুপুরে তাকে (ঝিলাম) ফোন দিয়ে ছাত্রলীগের ২/১জন অসহায় কর্মীকে এ কাজের সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য অনুরোধ করা হয়। এসময় ঝিলাম তাকে (সুমন) তার টরকী বন্দরের বাসায় আসার জন্য বলেন।

সুমন মাহমুদ আরও জানান, ঝিলামের কথামতো পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মিলন খলিফাকে নিয়ে তিনি ঝিলামের টরকী বাসায় প্রবেশের সাথে সাথে সে বাসার দরজা বন্ধ করে দেয়। এসময় তার (সুমন) কাছে ফোন আসে ঝিলামকে ছাত্রলীগের অপর গ্রুপের লোকজন তার বাসায় আটক করে রাখতে বলেছেন। সুমন আরও জানায়, এ খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক সে ঝিলামকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে দ্রুত অপর ছাত্রলীগ নেতা মিলন খলিফাকে নিয়ে স্থান ত্যাগ করে নিজ বাড়িতে চলে আসেন।

পরবর্তীতে সে (সুমন) খবর পায় তার গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ডের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুরসহ তার সমর্থক সরকারী গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সুজনকে বেধম মারধর করেছে। কিছু সময় পর খবর পান তার (সুমন) শ্বশুরের উত্তর বিজয়পুরের বাসায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়েছে। পরবর্তীতে হামলাকারীরা ৩০/৪০টি মোটরসাইকেলযোগে তার নিজ বাড়িতে প্রবেশের সময় দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় উভয় গ্রুপের কমপক্ষে সাতজন আহত ও ১০টি মোটরসাইকেল ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।

সুমন আরও জানায়, খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এ সুযোগে হামলাকারীরা তাদের বসতঘর ভাংচুরসহ তার মাকে বেধম মারধর করেছে। হামলায় গুরুত্বর আহত ছাত্রলীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন সুজন ও তার মাকে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে পুলিশ সুজনের দুইভাইকে আটক করে নিয়েছেন বলেও সুমন জানিয়েছেন।

হামলা ও ভাংচুরের ঘটনার সাথে উপজেলা ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নেই দাবি করে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের ইসলাম সান্টু ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান দিপ বলেন, শুনেছি চাঁদার দাবিতে আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদুজ্জামান ঝিলামের ওপর সুমন মাহমুদসহ অন্যান্যরা হামলা চালিয়েছে। পরবর্তীতে এ ঘটনার প্রতিবাদে কি হয়েছে তা আমাদের জানা নেই।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি গোলাম ছরোয়ার বলেন, হামলা ও সংঘর্ষের খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে দুইজনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় এখনও থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মোঃ মাসুদ সরদার/এসএম/আওয়াজবিডি

ads